Ghee

জেনে নিন ঘি এর বিশেষ কিছু উপকারিতা

শুরুতেই ছোট করে বলতে গেলে ঘি-

  • রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়
  • ব্রেন পাওয়ার বৃদ্ধি পায়
  • কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়
  • ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে
  • ওজন কমাতে সহায়তা করে
  • আর্থ্রাইটিস দূরে থাকে

বিভিন্ন গবেষণার প্রতিবেদনে এটা স্পষ্ট যে, প্রতিদিন ১-২ চা চামচ ঘি খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। নিয়মিত ঘি খেলে শরীরে একাধিক উপকারী ভিটামিন, মিনারেল এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের প্রবেশ হয়। এতে শরীর চাঙা হয়ে উঠায় ছোট খাটো কোনও অসুখ টিকে উঠতে পারে না। নিয়মিত ডায়েটে ঘি রাখলে শীতকালে বারবার সর্দি-কাশি এবং জ্বরের মতো রোগের আশঙ্কা হ্রাস পায় এবং অন্যান্য উপকার আসে।


শক্তির উৎস :

হঠাৎ করেই কি দুর্বলতা বা অসুস্থতা অনুভব করছেন? ঋতু পরিবর্তনও হতে পারে এর মূল কারণ। শীতকালে আপনাকে যথেষ্ট সচেতন হতে হবে। ডি কে পাবলিশিং হাউজের ‘হিলিং ফুডস’ বই বলছে, ঘি হচ্ছে শক্তির উৎস। ঘি-এ মাঝারি এবং শর্ট-চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে। যা লরিক অ্যাসিড একটি শক্তিশালী অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল এবং অ্যান্টিফাঙ্গাল পদার্থ। নিয়মিত ঘি খাওয়ার ফলে এসব উপাদান প্রয়োজনীয় শক্তি বৃদ্ধি করে থাকে।


ক্যান্সার প্রতিরোধ :

ঘি-এ থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের উপস্থিত ফ্রি রেডিক্যালদের ক্ষতি করার ক্ষমতা ধীরে ধীরে কমিয়ে দেয়। এতে কোষের বিন্যাসে পরিবর্তন আসে। যার জন্য শরীরে ক্যান্সার সেলের জন্ম নেয়ার হার কমতে থাকে। অনেকে রান্নায় ব্যবহার করে থাকেন ঘি। এভাবেও ঘি খাওয়ার অভ্যাস করা যেতে পারে। এর ‘স্মোকিং পয়েন্ট’ প্রচুর। তাই উচ্চতাপে রান্না করলেও ঘি’র উপকারী উপাদানে তেমন প্রভাব পড়ে না।

রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়

খালি পেটে ঘি খেলে শরীরে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে, যা রক্তে উপস্থিত খারাপ কোলেস্টেরলকে একেবারে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। ফলে হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেক কমে যায় ।


ভিটামিনের শোষণ ঠিক রাখা :

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে ঘিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরে প্রবেশের পর ভিটামিনের শোষণ বৃদ্ধি পায়। এতে দেহের অন্দরে ভিটামিনের ঘাটতির আশঙ্কা থাকে না। সঙ্গে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়।

ওজন কমাতে সাহায্য করে:

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে ঘিয়ের অন্দরে মজুত মিডিয়াম চেন ফ্যাটি অ্যাসিড, শরীরে জমে থাকা ফ্যাট সেলের গলাতে শুরু করে।

ব্রেন পাওয়ার বৃদ্ধি পায়

মস্তিষ্কের সচলতা বজায় রাখতে উপকারি ফ্যাটের প্রয়োজন পরে। আর যেমনটা আপনারা ইতিমধ্যেই জেনে ফেলেছেন যে ঘিয়ে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় অ্যাসেনশিয়াল ফ্যাট, যা ব্রেন সেলের কর্মক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ঘিয়ে উপস্থিত প্রোটিন, নিউরোট্রান্সমিটাররা যাতে ঠিক মতো কাজ করতে পারে, সেদিকেও খেয়াল রাখে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই স্মৃতিশক্তির বিকাশ ঘটতে সময় লাগে না।


অভ্যন্তর থেকে গরম রাখা :

আয়ুর্বেদদের ভাষ্যমতে আমাদের খাবারগুলো নির্দিষ্ট প্রকৃতির হয়ে থাকে। যেমন- উষ্ণ, শীতল এবং নিরপেক্ষ। তবে ঘি উষ্ণতাযুক্ত খাবার। সবজির তরকারিতে বা এক চা চামচ করে নিয়মিত ঘি খাওয়ার ফলে শরীরে অভ্যন্তর থেকে উষ্ণতা বজায় থাকে।


ত্বকের যত্ন :

ঘি-এর মধ্যে অত্যাবশ্যকীয় ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে। এ উপাদানটি নিস্তেজ এবং শুষ্ক ত্বকের পুষ্টি জোগাতে অনেক কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও ত্বকের কোষগুলিকে হাইড্রেট করে। একটি পাত্রে ২ টেবিল চামচ ঘি, ২ টেবিল চামচে বেসন বা হলুদ এবং সামান্য প্রয়োজন অনুযায়ী পানি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এরপর তা হাত-পা ও মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিটের মতো রাখুন এবং পরে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। নিজেই ত্বকের পরিবর্তনটা বুঝতে পারবেন।


সূত্র: এনডিটিভি

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *